০১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমাইয়ে বিয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ব্যবসায়ী দুলালকেখুন্তি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা ভাড়াটিয়া সুমি কুমিল্লার বেলতলীতে পিকআপ চাপায় পথচারী নিহত বিতর্কের মুখে সংসদের নির্বাচনী এলাকা সীমানা নির্ধারণ কারিগরি কমিটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণে জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান অপরাধী যে দলেরই হোক, কোনো ছাড় নেই- ওসি মোহাম্মদ সেলিম কুমিল্লা সদর দক্ষিণে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইয়ংস্টার সোশ্যাল অর্গানাইজেশন এর সদর দক্ষিন উপজেলার কমিটি গঠন নতুন পুরাতন বুঝি না,ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে-ডা. শফিকুর রহমান ছয় দফা দাবিতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি

কুমিল্লা কান্দিরপাড়, টমছমব্রিজ সহ বিভিন্ন পয়েন্টে করোনা সংকটেও থেমে নেই সড়কের চাঁদাবাজি

  • তারিখ : ০২:০৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুন ২০২১
  • / 643

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

রিকশাচালক মফিজ মিয়া। কুমিল্লা নগরীর টছমব্রিজ এলাকায় দুই সন্তান নিয়ে বস্তিতে বসবাস। টিভিতে সারাদেশে সাতদিনের লকডাউনের খবর শুনে রবিবার সকাল ৭ টায় বেরিয়ে যান রিকশা নিয়ে।

নগরীর জাঙ্গালিয়া বাস স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছেন যাত্রীর খোঁজে। এমন সময় সড়কের দুই পাশ থেকে তার সামনে ছুটে আসেন হাতে লাঠি ও মুখে বাঁশি নিয়ে দুই যুবক।

একটি স্লিপ হাতে দিয়ে ২০ টাকা চাঁদা দাবি করেন । কিন্তু মফিজ মিয়া তার কাছে কোনো টাকা নেই বলতেই গালে চড় বসিয়ে দেন। এর ঠিক ১০ মিনিট পর চাঁদা না দেওয়ায় সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন মিয়ার ওপর চড়াও হন তারা ।

এতে কয়েকজন পথচারী ও যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এই দুই যুবক এবং চাঁদা আদায়কারীর পক্ষ নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে সড়কে হাজির হলেন তাদের আরও ১০-১২জন সঙ্গী। তাদের রুদ্রমূর্তি দেখে ভয়ে শেষ পর্যন্ত চাঁদা দিতে বাধ্য হন সুমন ও মফিজ মিয়া। কুমিল্লার নগরীতে এমন ঘটনা নিত্যদিনের।

নগরীর কান্দিরপাড়, টমছমব্রিজ, চকবাজার, কোটবাড়ি রোড,শাসনগাছা, চকবাজার কাশারীপট্টি, জাঙ্গালিয়া মোড়সহ প্রায় ১০টি পয়েন্টে সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কথিত শ্রমিক সংগঠনের নামে বিভিন্ন স্লিপ দিয়ে নগরীর প্রবেশপথ এইভাবে প্রতিনিয়ত দিনরাত ছোট বড় যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করছে চাঁদাবাজরা ।

অন্যদিকে নগরীর মতো জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়কে সড়কে একই কায়দায় চলছে চাঁদাবাজি। সড়কের মাঝ রাস্তায় কিংবা উপজেলার পৌর এলাকার অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি দাঁড় করিয়ে লাইনম্যানদের মাধ্যমে হাতে স্লিপ দিয়ে আদায় করা হচ্ছে করছে চাঁদা।

শুধু জেলা পরিষদের ইজারাকৃত স্ট্যান্ডেই নয়, চাঁদা দিতে হচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের সড়কের পথে পথেও। এসব চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেটের কাছে পরিবহন শ্রমিকরা অসহায় ।

সিএনজি অটোরিকশা চালক কালু মিয়া বলেন, তারা প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে তার আয় হয় ১০০০-১১০০ টাকা। বুড়িচং উপজেলা শুধু সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদা দিয়ে হয় দিনে ২৯০ টাকা ।

অথচ দিনশেষ মালিককে জমা দিতে হয় ৫০০ টাকা । বাকি ২০০-৩০০ টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর। বিষয়টি আমরা উপজেলা পরিষদের পরিবহন শ্রমিকরা মিলে কয়েকবার অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হয়নি ।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে নগরীতে তিনটি বাস স্টেশন ইজারা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নগরের সড়কে কয়েকজন চাঁদাবাজকে আমরা পুলিশ ও র‌্যাবের সহযোগিতা কয়েকবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছি। আশা করি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, সড়কে চাঁদাবাজির ব্যাপারে আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। সুনির্দিষ্ট স্থানে কোথাও যদি চাঁদাবাজির তথ্য থাকে, আমাদের যে কেউ জানাতে পারে । আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সূত্র :

কুমিল্লার পেপার

শেয়ার করুন

কুমিল্লা কান্দিরপাড়, টমছমব্রিজ সহ বিভিন্ন পয়েন্টে করোনা সংকটেও থেমে নেই সড়কের চাঁদাবাজি

তারিখ : ০২:০৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুন ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

রিকশাচালক মফিজ মিয়া। কুমিল্লা নগরীর টছমব্রিজ এলাকায় দুই সন্তান নিয়ে বস্তিতে বসবাস। টিভিতে সারাদেশে সাতদিনের লকডাউনের খবর শুনে রবিবার সকাল ৭ টায় বেরিয়ে যান রিকশা নিয়ে।

নগরীর জাঙ্গালিয়া বাস স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছেন যাত্রীর খোঁজে। এমন সময় সড়কের দুই পাশ থেকে তার সামনে ছুটে আসেন হাতে লাঠি ও মুখে বাঁশি নিয়ে দুই যুবক।

একটি স্লিপ হাতে দিয়ে ২০ টাকা চাঁদা দাবি করেন । কিন্তু মফিজ মিয়া তার কাছে কোনো টাকা নেই বলতেই গালে চড় বসিয়ে দেন। এর ঠিক ১০ মিনিট পর চাঁদা না দেওয়ায় সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন মিয়ার ওপর চড়াও হন তারা ।

এতে কয়েকজন পথচারী ও যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এই দুই যুবক এবং চাঁদা আদায়কারীর পক্ষ নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে সড়কে হাজির হলেন তাদের আরও ১০-১২জন সঙ্গী। তাদের রুদ্রমূর্তি দেখে ভয়ে শেষ পর্যন্ত চাঁদা দিতে বাধ্য হন সুমন ও মফিজ মিয়া। কুমিল্লার নগরীতে এমন ঘটনা নিত্যদিনের।

নগরীর কান্দিরপাড়, টমছমব্রিজ, চকবাজার, কোটবাড়ি রোড,শাসনগাছা, চকবাজার কাশারীপট্টি, জাঙ্গালিয়া মোড়সহ প্রায় ১০টি পয়েন্টে সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কথিত শ্রমিক সংগঠনের নামে বিভিন্ন স্লিপ দিয়ে নগরীর প্রবেশপথ এইভাবে প্রতিনিয়ত দিনরাত ছোট বড় যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করছে চাঁদাবাজরা ।

অন্যদিকে নগরীর মতো জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়কে সড়কে একই কায়দায় চলছে চাঁদাবাজি। সড়কের মাঝ রাস্তায় কিংবা উপজেলার পৌর এলাকার অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি দাঁড় করিয়ে লাইনম্যানদের মাধ্যমে হাতে স্লিপ দিয়ে আদায় করা হচ্ছে করছে চাঁদা।

শুধু জেলা পরিষদের ইজারাকৃত স্ট্যান্ডেই নয়, চাঁদা দিতে হচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের সড়কের পথে পথেও। এসব চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেটের কাছে পরিবহন শ্রমিকরা অসহায় ।

সিএনজি অটোরিকশা চালক কালু মিয়া বলেন, তারা প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে তার আয় হয় ১০০০-১১০০ টাকা। বুড়িচং উপজেলা শুধু সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদা দিয়ে হয় দিনে ২৯০ টাকা ।

অথচ দিনশেষ মালিককে জমা দিতে হয় ৫০০ টাকা । বাকি ২০০-৩০০ টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর। বিষয়টি আমরা উপজেলা পরিষদের পরিবহন শ্রমিকরা মিলে কয়েকবার অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হয়নি ।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে নগরীতে তিনটি বাস স্টেশন ইজারা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নগরের সড়কে কয়েকজন চাঁদাবাজকে আমরা পুলিশ ও র‌্যাবের সহযোগিতা কয়েকবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছি। আশা করি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, সড়কে চাঁদাবাজির ব্যাপারে আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। সুনির্দিষ্ট স্থানে কোথাও যদি চাঁদাবাজির তথ্য থাকে, আমাদের যে কেউ জানাতে পারে । আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সূত্র :

কুমিল্লার পেপার