১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মুরাদনগরে মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণ সমর্থন পেলেন বিএনপি প্রার্থী কায়কোবাদ জনগণের পরামর্শেই চলবে মুরাদনগর, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় নয়: কায়কোবাদ মুরাদনগরে ছাড়পত্র না থাকায় ৮ লাখ টাকা জরিমানা, তিনটি ইটভাটা বন্ধ নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে কোরআন শিক্ষা বাধ্যতামুলক করার দাবি তুলবো – মনিরুল হক চৌধুরী মুরাদনগরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার; পরিবারের দাবি হত্যা ‘নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ, প্রচারণায় মুখর পুরো উপজেলা’ মুরাদনগরে আচরণবিধি লঙ্ঘন: বিএনপি প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দীর্ঘ দুই যুগ পর কুমিল্লায় আসছেন তারেক রহমান হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে বিএনপি প্রার্থীর আবেদন কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ছাত্রলীগ নেতা সাকিব গ্রেফতার

বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

  • তারিখ : ১১:০৪:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৩
  • / 452

আরিফ গাজী :

# ৪০ বছরেও নির্মাণ হয়নি শোধনাগার।
# দূর্ভোগে ফিল্ডের আশ-পাশের কয়েক’শ পরিবার।
# হুমকির মুখে জীব বৈচিত্র।

কুমিল্লার মুরাদনগরে ১৯৮৪ সালে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (বিজিডিসিএল)’র গ্যাস কূপ থেকে অনুষ্ঠানিক ভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করা হয়। এরই মাঝে কেটে গেছে ৪০ বছর এখন পর্যন্ত সেখানে নির্মাণ করা হয়নি বর্জ্য পরিশোধনাগার। ফিল্ড থেকে উত্তেলনকৃত ডিজেল ও পেট্রোলের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সিমানা প্রাচিরের বাহিরের একটি পুকুরে। ফলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ফিল্ডের আশ-পাশের কয়েক’শ পরিবারের।

স্থানীয়দের দাবী, যে পুকুরে ফিল্ডের বর্জ্য ফেলা হয় সেটি বর্ষা মৌসুম এলেই চরম দূর্ভোগের শিকার হতে হয় কয়েক গ্রামের মানুষকে। কারণ ভারী বৃষ্টিপাত হলেই পুকুরের পানি বেড়ে গিয়ে ফিল্ডের বর্জ্য মিসে যাচ্ছে এলাকার কৃষি জমিসহ খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে কৃষি জমিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে এসব দুর্গন্ধযুক্ত পানি। আর এই পানি ব্যবহারের ফলে অধিকাংশ কৃষি জমির ফসল ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে এই এলাকার মাছ চাষও এখন হুমকির মুখে এসব বর্জ্যমিশ্রিত পানি কারণে।

পরিবেশ অধিদপ্তর আইনে বলা হয়েছে, প্রতিটি কলকারখানার কেমিক্যালযুক্ত এই বর্জ্য-পানি পরিশোধন করতে হবে এবং পরিশোধনকৃত পানি আবার কাজে লাগাতে হবে। এজন্য ব্যবহার করতে হবে তরল পানি বর্জ্য শোধনাগার বা এ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি)। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীতে এই ইটিপি প্ল্যান্ট না থাকার কারনে বছরের পর বছর ফিল্ডের ফেলা বর্জ্যে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও উত্তেজনা।

বাখরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো: খোকন বলেন, ওই বর্জ্যরে পুকুরের পানির দূর্গন্ধে আশপাশের মানুষ অতিষ্ট। এখানে যে পুকুরটিতে পানি বর্জ্য ফেলা হয় সে পানির দুর্গন্ধে আশপাশে পশুপাখি যেতে পারে না। বর্ষার মৌসুমে এ বর্জ্য পানি আশপাশের পুকুরের পানিতে মিশ্রিত হয়ে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে।

ছয়ফুল্লাহকান্দি গ্রামের মো: সোহাগ বলেন, গ্যাসফিল্ডের কর্মরত কর্মকর্তারা আমাদের মানুষ মনে করে না। কয়েকমাস পরপর এ গ্যাসফিল্ডের ওভার গ্যাস শূন্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ওই সময় বিকট শব্দ হয় । কয়েকঘন্টা যাবত এ কার্যক্রম চলে যার কারনে শিশুরা আতঙ্কে থাকে। এবং খোলা পুকুরে বর্জ্য পানি ফেলার কারনে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এখানে থাকা বর্জ্যরে দুর্গন্ধে স্থানীয়রা নানা সমস্যায় ভোগে। পানি বর্জ্য পরিশোধনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাই।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: জিয়াউল কবীরে এসডিনিউজকে বলেন, আমাদের ফিল্ডের বর্জ্য পরিশোধন হয়ে পুকুরে যায়। যে পুকুরটিতে বর্জ্য ফেলা হয় সেটি আমাদের নিজস্ব পুকুর। ওই পুকুরটির চারপাশে আমরা আরসিসি পেলা সাডিং ওয়াল নির্মান করা আছে। যার কারনে পুকুরের বর্জ্য অন্য কোনো পুকুরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া আমরা ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। শিগ্রই টেন্ডারের মাধ্যমে ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক বলেন মোছাব্বের হোসেন মো: রাজিব এসডিনিউজকে বলেন, পুকুরে পানি বর্জ্য ফেলার বিষয়টি আমার জানা নাই। এ বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার করুন

বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

তারিখ : ১১:০৪:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৩

আরিফ গাজী :

# ৪০ বছরেও নির্মাণ হয়নি শোধনাগার।
# দূর্ভোগে ফিল্ডের আশ-পাশের কয়েক’শ পরিবার।
# হুমকির মুখে জীব বৈচিত্র।

কুমিল্লার মুরাদনগরে ১৯৮৪ সালে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (বিজিডিসিএল)’র গ্যাস কূপ থেকে অনুষ্ঠানিক ভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করা হয়। এরই মাঝে কেটে গেছে ৪০ বছর এখন পর্যন্ত সেখানে নির্মাণ করা হয়নি বর্জ্য পরিশোধনাগার। ফিল্ড থেকে উত্তেলনকৃত ডিজেল ও পেট্রোলের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সিমানা প্রাচিরের বাহিরের একটি পুকুরে। ফলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ফিল্ডের আশ-পাশের কয়েক’শ পরিবারের।

স্থানীয়দের দাবী, যে পুকুরে ফিল্ডের বর্জ্য ফেলা হয় সেটি বর্ষা মৌসুম এলেই চরম দূর্ভোগের শিকার হতে হয় কয়েক গ্রামের মানুষকে। কারণ ভারী বৃষ্টিপাত হলেই পুকুরের পানি বেড়ে গিয়ে ফিল্ডের বর্জ্য মিসে যাচ্ছে এলাকার কৃষি জমিসহ খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে কৃষি জমিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে এসব দুর্গন্ধযুক্ত পানি। আর এই পানি ব্যবহারের ফলে অধিকাংশ কৃষি জমির ফসল ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে এই এলাকার মাছ চাষও এখন হুমকির মুখে এসব বর্জ্যমিশ্রিত পানি কারণে।

পরিবেশ অধিদপ্তর আইনে বলা হয়েছে, প্রতিটি কলকারখানার কেমিক্যালযুক্ত এই বর্জ্য-পানি পরিশোধন করতে হবে এবং পরিশোধনকৃত পানি আবার কাজে লাগাতে হবে। এজন্য ব্যবহার করতে হবে তরল পানি বর্জ্য শোধনাগার বা এ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি)। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীতে এই ইটিপি প্ল্যান্ট না থাকার কারনে বছরের পর বছর ফিল্ডের ফেলা বর্জ্যে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও উত্তেজনা।

বাখরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো: খোকন বলেন, ওই বর্জ্যরে পুকুরের পানির দূর্গন্ধে আশপাশের মানুষ অতিষ্ট। এখানে যে পুকুরটিতে পানি বর্জ্য ফেলা হয় সে পানির দুর্গন্ধে আশপাশে পশুপাখি যেতে পারে না। বর্ষার মৌসুমে এ বর্জ্য পানি আশপাশের পুকুরের পানিতে মিশ্রিত হয়ে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে।

ছয়ফুল্লাহকান্দি গ্রামের মো: সোহাগ বলেন, গ্যাসফিল্ডের কর্মরত কর্মকর্তারা আমাদের মানুষ মনে করে না। কয়েকমাস পরপর এ গ্যাসফিল্ডের ওভার গ্যাস শূন্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ওই সময় বিকট শব্দ হয় । কয়েকঘন্টা যাবত এ কার্যক্রম চলে যার কারনে শিশুরা আতঙ্কে থাকে। এবং খোলা পুকুরে বর্জ্য পানি ফেলার কারনে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এখানে থাকা বর্জ্যরে দুর্গন্ধে স্থানীয়রা নানা সমস্যায় ভোগে। পানি বর্জ্য পরিশোধনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাই।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: জিয়াউল কবীরে এসডিনিউজকে বলেন, আমাদের ফিল্ডের বর্জ্য পরিশোধন হয়ে পুকুরে যায়। যে পুকুরটিতে বর্জ্য ফেলা হয় সেটি আমাদের নিজস্ব পুকুর। ওই পুকুরটির চারপাশে আমরা আরসিসি পেলা সাডিং ওয়াল নির্মান করা আছে। যার কারনে পুকুরের বর্জ্য অন্য কোনো পুকুরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া আমরা ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। শিগ্রই টেন্ডারের মাধ্যমে ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক বলেন মোছাব্বের হোসেন মো: রাজিব এসডিনিউজকে বলেন, পুকুরে পানি বর্জ্য ফেলার বিষয়টি আমার জানা নাই। এ বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।