প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কুমিল্লার কোটবাড়ি বার্ড

কুমিল্লা এসডি নিউজ ডেস্ক:

ঘুরতে যারা ভালোবাসেন তারা সুযোগ পেলেই বেড়িয়ে পড়েন অজানার উদ্দেশ্যে। দেশের নানান জেলার সৌন্দর্য খুঁজে বেড়ানোই ভ্রমণ প্রেমীদের নেশা।

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য আর বৈচিত্র্যতা। ঐতিহ্যবাহী জেলা কুমিল্লা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থাপত্যের জন্য বেশ পরিচিত একটি নাম।

প্রাচীন এই জেলাটিতে রয়েছে দর্শনীয় অনেক জায়গা। সেসকল জায়গার মধ্যে অন্যতম একটি আকর্ষণীয় স্থান হল বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড)। কুমিল্লা আসবেন অথচ বার্ড দেখবেন না তা কি করে হয়! তাই কুমিল্লা বেড়াতে আসলে অবশ্যই ঘুরে যাবেন বার্ড থেকে।

কুমিল্লা জেলার কোর্টবাড়িতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বা বার্ড অবস্থিত। কুমিল্লা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। উপমহাদেশের সমবায়ের অন্যতম পথিকৃৎ আকতার হামিদ খান ১৯৫৯ সালে বার্ড প্রতিষ্ঠা করেন।

বার্ড মূলত বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত মানুষের প্রশিক্ষণ একাডেমী। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রায়োগিক কর্মকাণ্ডে এই স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে আসছে।

প্রতিষ্ঠালগ্নে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ এবং তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বার্ড দিয়ে থাকে। প্রতিবছর সারাদেশ থেকে লাখো লাখো শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির হাজার হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী এখানে প্রশিক্ষণের জন্য আসে।

শুধু প্রশিক্ষণকেন্দ্রই নয়, এর অবারিত প্রাকৃতিক শোভা আর মনোরম পরিবেশের জন্য বার্ড পরিণত হয়েছে দারুণ এক বিনোদন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পটে। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ বেড়াতে আসে। এখানে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে ছায়া সুনিবিড়, মায়া-মমতায় ঘেরা রাস্তা, অপূর্ব নির্জন প্রাকৃতিক পরিবেশ।

রাস্তার দু’পাশে নানা রকম রং-বেরংয়ের ফুল ও ফলের গাছের সমাহার। পাখির কূজন আর ফুলের গন্ধ ঘিরে রেখেছে বার্ডকে।এখানে উঁচু নিচু পাহাড়ের গা ঘেঁষে আছে নানা গাছগাছালির বাহার। বিশাল আয়তন নিয়ে বার্ড অপূর্ব এক জায়গা।

অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে অবস্থিত এই বিশাল প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ২০০টি সিট। অনুষ্ঠানের জন্য রয়েছে কয়েকটি হলরুমে। আছে ক্লাসরুম ও ট্রেনিং সেন্টারের সব ব্যবস্থা। এখানে উন্নতমানের মানের দুটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। এছাড়া রয়েছে কনফারেন্স কক্ষ, গ্রন্থাগার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রায় সাড়ে তিনশ কর্মী নিয়ে এই বিশাল প্রতিষ্ঠান। রয়েছে কর্মীদের জন্য আবাস্থল। এর একাডেমী ভবন হোস্টেল এর পেছনে দেখতে পাবেন বাগান। গাছে গাছে ফুল-ফল, খেলার মাঠ, বাগান, বাঁশঝাড় সব মিলিয়ে এ যেনো দেয়াল ঘেরা একটি গ্রাম।

রয়েছে কয়েকটি টিলা। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে ছোট ছোট সিঁড়ি। বার্ডের ভেতরের সুন্দর রাস্তা দিয়ে সামনে এগুলেই দুই পাহাড়ের মাঝখানে দেখতে পাবেন অনিন্দ্যসুন্দর বনকুটির। আরো রয়েছে নীলাচল পাহাড়।

নির্জন প্রকৃতির এক অপার ভাললাগার জায়গা হচ্ছে নীলাচল। এই পাহাড়ের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। এছাড়া বার্ডের ভিতরে লালমাই পাহাড়ের শীর্ষ দেশে রয়েছে দুটি ‘চন্ডি মন্দির’। এই এলাকাটি চন্ডিমুড়া হিসেবে পরিচিত। ১৩’শ বছরের পুরোনো এই মন্দির দুটি দেখে আসতে ভুলবেন না। এর সামান্য দূরেই রয়েছে বিশাল এলাকা জুড়ে ‘দুতিয়া দীঘি’। অপূর্ব শোভা এই দিঘির।

বার্ডের ভেতরে একটি সুন্দর বোটানিক্যাল গার্ডেন আছে। আছে বনমালঞ্চ নামে একটি সুন্দর ভিআইপি পিকনিক স্পট। পিকনিক করার জন্য সব সু-ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

বিশাল এলাকা নিয়ে বার্ড যেনো এক আনন্দ ভুবন। সারাদিন ঘুরে বেড়ানো ও খেলাধুলার জন্য মনোরম বিশাল জায়গা রয়েছে এখানে।

বার্ডের পাশেই রয়েছে ময়নামতি বৌদ্ধবিহার প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। আপনি চাইলে বার্ড থেকে এর পার্শ্ববর্তী লতিকোট মুড়া, রুপবানমূড়া, শ্বেতমন্দির, আনন্দবিহার দেখে আসতে পারেন।

বার্ডে প্রবেশের জন্য কোনো টিকেট নেই, তবে অনুমতি নিতে হবে। আর ভিআইপি পিকনিক স্পট এর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া দিতে হয়।

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
error: ধন্যবাদ!