১২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মুরাদনগরে মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণ সমর্থন পেলেন বিএনপি প্রার্থী কায়কোবাদ জনগণের পরামর্শেই চলবে মুরাদনগর, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় নয়: কায়কোবাদ মুরাদনগরে ছাড়পত্র না থাকায় ৮ লাখ টাকা জরিমানা, তিনটি ইটভাটা বন্ধ নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে কোরআন শিক্ষা বাধ্যতামুলক করার দাবি তুলবো – মনিরুল হক চৌধুরী মুরাদনগরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার; পরিবারের দাবি হত্যা ‘নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ, প্রচারণায় মুখর পুরো উপজেলা’ মুরাদনগরে আচরণবিধি লঙ্ঘন: বিএনপি প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দীর্ঘ দুই যুগ পর কুমিল্লায় আসছেন তারেক রহমান হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে বিএনপি প্রার্থীর আবেদন কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ছাত্রলীগ নেতা সাকিব গ্রেফতার

নোয়াখালীতে মানা হচ্ছে না লকডাউন, জনসমাগমে ঈদের আমেজ

  • তারিখ : ০৮:১৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০
  • / 299

নোয়াখালী জেলা লকডাউন করেছে প্রশাসন। কিন্তু লকডাউনের মধ্যেও জেলার সোনাইমুড়িতে ঘরে থাকার নির্দেশ থাকলেও মানছে না কেউ। উপজেলার হাটবাজারগুলোর জনসমাগমের দৃশ্য দেখলে মনে হয় যে ঈদের আমেজ। সচেতন মহলের প্রশ্ন এ কেমন লকডাউন?

গত ১১ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে জেলা প্রশাসক কর্তৃক নোয়াখালীকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হলে প্রথম ২/১ দিন মানলেও এখন আর মানছে না উপজেলার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ। জনসচেতনতার অভাবে লকডাউন যেন কাগজে কলমেই রয়ে গেছে।

সোমবার সকল ১১ টার দিকে পৌর শহরের রেলগেট এলাকা থেকে সবজি ও মাছ দোকান হাইস্কুল মাঠে সরিয়ে নিলেও মাংস, মোরগ ও ফলের দোকান এখানে থেকে যায়। অথচ সরকারি নির্দেশ মোতাবেক এসব দোকানও সেখানে যাওয়ার কথা।

আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ক্রেতা সাধারণ ভিড় করছে এসব দোকানে। এমন দৃশ্য দেখে মনে হয় দেশে প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) এর মতো মহামারি জনমনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলেনি, দেখলে মনে হয় ঈদের আমেজ।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জয়াগ, নদোনা, চাষিরহাট, বারগাঁও, অম্বরনগর, নাটেশ্বর, বজরা, সোনাপুর, দেওটি, আমিশাপাড়া বাজারগুলোর একই চিত্র।

ইতিপূর্বে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সচেনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা কাজে আসছে না।

উপজেলার রথী গ্রাম থেকে কামরুজ্জামান বলেন, বাড়ি বসে থেকে বন্দী জীবন মনে হয়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও ঘোরাফেরার জন্য বাজারে আসলাম।

সচেতন মহল মনে করেন সোনাইমুড়ি বাজারের রেলগেট এলাকা থেকে মাংস, মোরগ ও ফলের দোকান সরিয়ে নিলে এ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়াও ওষুধ, মুদি, কাঁচাবাজার দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা থাকলেও হোটেল-রেস্টুরেন্ট ছাড়া বাকী প্রায় সব দোকানই খোলা রয়েছে।

এ বিষয়ে সোনাইমুড়ি পৌর কাউন্সিলর লোকমান হোসেন জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চর্তুমুখী রেলগেট এলাকায় ফুটপাতে যেসব দোকান রয়েছে এগুলো স্কুল মাঠে সরিয়ে নিলে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে বলে আশা করি।

মাঝে মাঝে পুলিশি টহল দেখে লোকজন সটকে পড়লেও পুলিশ চলে গেছে আবার পূর্বে চিত্র, এ যেন চোর পুলিশের খেলা। এ বিষয়ে বাজার কমিটি সেক্রেটারি খলিলুর রহমান জানান, পুলিশ আসলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় পুলিশ চলে গেলে পূর্বের চিত্রই দেখা যায়। কোনোভাবেই সচেতন হচ্ছে না মানুষ, মানছে না লকডাউন।

সোনাইমুড়ি থানার ওসি আবদুস সামাদ জানান, উপজেলার সব বাজারে জনসচেতনতামূলক লিফলেট, মাইকিংসহ নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। লকডাউন না মানা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিনা পাল জানান, আমরা প্রতিনিয়ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। উপজেলার যে কোনো বাজারে সরকারি নির্দেশ অমান্যকারী যেই হোক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে মানা হচ্ছে না লকডাউন, জনসমাগমে ঈদের আমেজ

তারিখ : ০৮:১৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০

নোয়াখালী জেলা লকডাউন করেছে প্রশাসন। কিন্তু লকডাউনের মধ্যেও জেলার সোনাইমুড়িতে ঘরে থাকার নির্দেশ থাকলেও মানছে না কেউ। উপজেলার হাটবাজারগুলোর জনসমাগমের দৃশ্য দেখলে মনে হয় যে ঈদের আমেজ। সচেতন মহলের প্রশ্ন এ কেমন লকডাউন?

গত ১১ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে জেলা প্রশাসক কর্তৃক নোয়াখালীকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হলে প্রথম ২/১ দিন মানলেও এখন আর মানছে না উপজেলার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ। জনসচেতনতার অভাবে লকডাউন যেন কাগজে কলমেই রয়ে গেছে।

সোমবার সকল ১১ টার দিকে পৌর শহরের রেলগেট এলাকা থেকে সবজি ও মাছ দোকান হাইস্কুল মাঠে সরিয়ে নিলেও মাংস, মোরগ ও ফলের দোকান এখানে থেকে যায়। অথচ সরকারি নির্দেশ মোতাবেক এসব দোকানও সেখানে যাওয়ার কথা।

আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ক্রেতা সাধারণ ভিড় করছে এসব দোকানে। এমন দৃশ্য দেখে মনে হয় দেশে প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) এর মতো মহামারি জনমনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলেনি, দেখলে মনে হয় ঈদের আমেজ।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জয়াগ, নদোনা, চাষিরহাট, বারগাঁও, অম্বরনগর, নাটেশ্বর, বজরা, সোনাপুর, দেওটি, আমিশাপাড়া বাজারগুলোর একই চিত্র।

ইতিপূর্বে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সচেনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা কাজে আসছে না।

উপজেলার রথী গ্রাম থেকে কামরুজ্জামান বলেন, বাড়ি বসে থেকে বন্দী জীবন মনে হয়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও ঘোরাফেরার জন্য বাজারে আসলাম।

সচেতন মহল মনে করেন সোনাইমুড়ি বাজারের রেলগেট এলাকা থেকে মাংস, মোরগ ও ফলের দোকান সরিয়ে নিলে এ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়াও ওষুধ, মুদি, কাঁচাবাজার দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা থাকলেও হোটেল-রেস্টুরেন্ট ছাড়া বাকী প্রায় সব দোকানই খোলা রয়েছে।

এ বিষয়ে সোনাইমুড়ি পৌর কাউন্সিলর লোকমান হোসেন জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চর্তুমুখী রেলগেট এলাকায় ফুটপাতে যেসব দোকান রয়েছে এগুলো স্কুল মাঠে সরিয়ে নিলে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে বলে আশা করি।

মাঝে মাঝে পুলিশি টহল দেখে লোকজন সটকে পড়লেও পুলিশ চলে গেছে আবার পূর্বে চিত্র, এ যেন চোর পুলিশের খেলা। এ বিষয়ে বাজার কমিটি সেক্রেটারি খলিলুর রহমান জানান, পুলিশ আসলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় পুলিশ চলে গেলে পূর্বের চিত্রই দেখা যায়। কোনোভাবেই সচেতন হচ্ছে না মানুষ, মানছে না লকডাউন।

সোনাইমুড়ি থানার ওসি আবদুস সামাদ জানান, উপজেলার সব বাজারে জনসচেতনতামূলক লিফলেট, মাইকিংসহ নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। লকডাউন না মানা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিনা পাল জানান, আমরা প্রতিনিয়ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। উপজেলার যে কোনো বাজারে সরকারি নির্দেশ অমান্যকারী যেই হোক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।