০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মুরাদনগরে ছাড়পত্র না থাকায় ৮ লাখ টাকা জরিমানা, তিনটি ইটভাটা বন্ধ নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে কোরআন শিক্ষা বাধ্যতামুলক করার দাবি তুলবো – মনিরুল হক চৌধুরী মুরাদনগরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার; পরিবারের দাবি হত্যা ‘নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ, প্রচারণায় মুখর পুরো উপজেলা’ মুরাদনগরে আচরণবিধি লঙ্ঘন: বিএনপি প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দীর্ঘ দুই যুগ পর কুমিল্লায় আসছেন তারেক রহমান হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে বিএনপি প্রার্থীর আবেদন কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ছাত্রলীগ নেতা সাকিব গ্রেফতার ওসিকে হুমকি দেওয়া বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী গ্রেপ্তার কুমিল্লার ৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীসহ ১১ জনের মনোনয়ন বাতিল

নাঙ্গলকোটে ইউপি চেয়ারম্যানের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করল প্রধান শিক্ষককে

  • তারিখ : ০৭:১৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল ২০২১
  • / 573

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পূর্ব ইউপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিয়াজির পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন- দৌলখাড় ইউপির জয়াগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিয়া মোহাম্মদ আল মামুন ও তার ছেলে আল জাবের শিবলুকে।

গত ২৮ এপ্রিল রাতে চেয়ারম্যানের বাড়ীতে প্রায় ২শতাধিক লোকজন ও তার সাঙ্গ পাঙ্গদেরকে সাথে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক করেন।

এ সময় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তার লোকজন মামুন মাষ্টারকে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে হাজির করেন ও গলায় ধাক্কা দিয়ে চেয়ারম্যানের পা ধরে মাফ চাইতে বলেন। মামুন মাস্টার ও তার ছেলের চেয়ারম্যানের পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ করা হয়। যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওটিতে শুনা যায় শিক্ষক মামুন ইউপি চেয়ারম্যানকে কাকা সম্বোধন করে ক্ষমা চান। ভিডিওটি ভাইরাল হওযায় শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মামুন মাষ্টারের ছেলে আল জাবের শিবলু বলেন- যেহেতু বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে। আমরা এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চাই না। উল্লেখ্য -২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার উপজেলার জোড্ডা গ্রামে সম্পত্তি সংক্রান্ত নিয়ে বিরোধের জের ধরে মামুন মাষ্টারের ভাতিজার হাতে খুন হন তার ভাই এনামুল হক দরবেশ।

এ সময় এনাম দরবেশের ছেলে সিএনজি চালক নুর মোহাম্মদ সুমন তার বাবাকে হত্যা করেছেন বলে চেয়ারম্যানের কাছে স্বীকার করেন এবং তাকে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আকুতি করেন। এনিয়ে মামুন মাস্টার চেয়ারম্যানকে বলেন-হত্যাকান্ডটি কে বা কারা করেছে বিবেচনা করে কথা বলেন। এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে মামুন মাস্টারের ছেলে আল জাবের শিবলুকে ঘাড়ে থাপ্পড় মারেন।

এ সময় মামুন মাস্টার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে চেয়ারম্যানের গায়ে হাত তোলেন। এতে চেয়ারম্যান ক্ষুদ্ধ হয়ে ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মামুন মাস্টারের জমির মাটি কেটে নেয়। পরে ২৮ এপ্রিল প্রায় ২ শতাধিক লোকজনের উপস্থিতেতে চেয়ারম্যানের বাড়ীর ছাদে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে মামুন মাস্টার ও তার ছেলেকে চেয়ারম্যানের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।

উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন- ঘটনাটি দুঃক্ষ জনক। লাঞ্চিত শিক্ষক অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নিব। ইউপির চেয়ারম্যানের মুঠো ফোন কল দিলে তা ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লামইয়া সাইফুল বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

নাঙ্গলকোটে ইউপি চেয়ারম্যানের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করল প্রধান শিক্ষককে

তারিখ : ০৭:১৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পূর্ব ইউপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিয়াজির পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন- দৌলখাড় ইউপির জয়াগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিয়া মোহাম্মদ আল মামুন ও তার ছেলে আল জাবের শিবলুকে।

গত ২৮ এপ্রিল রাতে চেয়ারম্যানের বাড়ীতে প্রায় ২শতাধিক লোকজন ও তার সাঙ্গ পাঙ্গদেরকে সাথে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক করেন।

এ সময় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তার লোকজন মামুন মাষ্টারকে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে হাজির করেন ও গলায় ধাক্কা দিয়ে চেয়ারম্যানের পা ধরে মাফ চাইতে বলেন। মামুন মাস্টার ও তার ছেলের চেয়ারম্যানের পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ করা হয়। যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওটিতে শুনা যায় শিক্ষক মামুন ইউপি চেয়ারম্যানকে কাকা সম্বোধন করে ক্ষমা চান। ভিডিওটি ভাইরাল হওযায় শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মামুন মাষ্টারের ছেলে আল জাবের শিবলু বলেন- যেহেতু বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে। আমরা এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চাই না। উল্লেখ্য -২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার উপজেলার জোড্ডা গ্রামে সম্পত্তি সংক্রান্ত নিয়ে বিরোধের জের ধরে মামুন মাষ্টারের ভাতিজার হাতে খুন হন তার ভাই এনামুল হক দরবেশ।

এ সময় এনাম দরবেশের ছেলে সিএনজি চালক নুর মোহাম্মদ সুমন তার বাবাকে হত্যা করেছেন বলে চেয়ারম্যানের কাছে স্বীকার করেন এবং তাকে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আকুতি করেন। এনিয়ে মামুন মাস্টার চেয়ারম্যানকে বলেন-হত্যাকান্ডটি কে বা কারা করেছে বিবেচনা করে কথা বলেন। এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে মামুন মাস্টারের ছেলে আল জাবের শিবলুকে ঘাড়ে থাপ্পড় মারেন।

এ সময় মামুন মাস্টার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে চেয়ারম্যানের গায়ে হাত তোলেন। এতে চেয়ারম্যান ক্ষুদ্ধ হয়ে ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মামুন মাস্টারের জমির মাটি কেটে নেয়। পরে ২৮ এপ্রিল প্রায় ২ শতাধিক লোকজনের উপস্থিতেতে চেয়ারম্যানের বাড়ীর ছাদে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে মামুন মাস্টার ও তার ছেলেকে চেয়ারম্যানের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।

উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন- ঘটনাটি দুঃক্ষ জনক। লাঞ্চিত শিক্ষক অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নিব। ইউপির চেয়ারম্যানের মুঠো ফোন কল দিলে তা ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লামইয়া সাইফুল বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।