খালেদার মুক্তি চেয়ে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর কাছে ড. ইউনুছ আলীর আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মুজিব শতবর্ষ পালনের দিনে মানবিক কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ। গতকাল মঙ্গলবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই আবেদন পাঠানো হয়েছে।

ইউনুছ আলী আকন্দ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী ছিলেন। এর আগে তিনি বরিশাল-৫ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছ থেকে ফরমও কিনেছিলেন তিনি। এমনকি মনোনয়ন না পেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন এই আইনজীবী।

ইউনুছ আলী আকন্দ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একই সঙ্গে আন্দোলন করেছেন। এই আন্দোলনের ফলে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। এই দুই নেত্রীর মধ্যে একজন কারাগারে। এটা বেমানান। তা ছাড়া সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অসুস্থ ব্যক্তির মুক্তির জন্যই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি।’

আবেদনে বলা হয়েছে, ‘মুজিব শতবর্ষ পালনের দিনে (আগামী ১৭ মার্চ) সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ১১, ৪৮(৩) ও ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করে মানবিক কারণে এবং তাঁর বয়স, প্রথম শ্রেণির নাগরিক ও অসুস্থ মহিলা হওয়ায় জেল থেকে মুক্তির আরজি জানাচ্ছি।’

আবেদনে বলা হয়, ‘সারা বিশ্বেই মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। এর কারণে বিভিন্ন দেশের বন্দিদের মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষও করোনায় আক্রান্ত। এই অবস্থায় খালেদা জিয়াসহ সব অসুস্থ, বৃদ্ধা, জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সংবিধান অনুসারে দণ্ড মওকুফের জন্য জনস্বার্থে আরজি জানাচ্ছি।’

আবেদনে আরো বলা হয়, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য বীর-উত্তম খেতাবও পেয়েছেন। আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন, তাহলে স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন সাহসী বীর-উত্তম খেতাবধারীর স্ত্রীকে এভাবে জেলে রেখে শতবর্ষ পালন করতেন না; কারাদণ্ড হলেও মুক্তি দিয়ে শতবর্ষ হতো। বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত ক্ষমাশীল ছিলেন। ক্ষমা মানুষকে সম্মান দেয় এবং জনসমর্থন বাড়ে।’

২০১০ সালে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ২০ জনের দণ্ড মওকুফ করার তথ্য তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ। তাই জনস্বার্থে যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কারো জন্য ক্ষমা চাইতে পারেন। তাই খালেদা জিয়াকে যেকোনো শর্তে সব ধরনের দণ্ডের মার্জনা, বিরাম মঞ্জুর এবং দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার আরজি জানাচ্ছি।’

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
error: ধন্যবাদ!